Honda SP160 review: বাংলাদেশে ownership এবং গাইড
Honda SP160 মূলত সেইসব বাংলাদেশি রাইডারদের জন্য তৈরি করা হয়েছে যারা সাধারণ কমিউটার বাইকের চেয়ে একটু মাসকুলার লুক এবং ভালো ওভারটেকিং ক্ষমতা চান, কিন্তু হাই-পারফরম্যান্স স্পোর্টস বাইকের দিকে যেতে চান না। বর্তমানে এর দাম ৳225,000 (লিস্টেড প্রাইস) থেকে শুরু, যেখানে একটি 163cc fuel-injected ইঞ্জিনের সাথে স্টাইলিশ ডিজাইন এবং ব্যবহারিক ফিচারের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। এই রিভিউটি বাইকটির স্পেসিফিকেশনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। যারা প্রতিদিনের যাতায়াতের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য বাইক খুঁজছেন তাদের জন্য এটি সেরা হতে পারে; তবে ঢাকার জ্যামে দুর্দান্ত ইকোনমি বা স্পোর্টিং পারফরম্যান্স আশা করলে এর সীমাবদ্ধতাগুলো আপনার চোখে পড়বে।
কাদের জন্য Honda SP160?
Honda SP160 তাদের জন্য উপযুক্ত যারা নিয়মিত অফিস যাতায়াত করেন, শহরতলীতে বাস করেন অথবা ছোট সিসি-র বাইক থেকে আপগ্রেড করতে চান। এর নেকেড-বাইক স্টাইলিং শোরুমে ক্রেতাদের নজর কাড়লেও, এর মূল প্যাকেজটি তৈরি করা হয়েছে রোমাঞ্চের চেয়ে নির্ভরযোগ্য যাতায়াতের জন্য। যারা পেছনে pillion নিয়ে রাইড করবেন, তারা কেনার আগে অবশ্যই সিট এবং ফুটরেস্টের পজিশন চেক করে নিন।
বাইকটির দামের ক্ষেত্রে সচেতন হওয়া জরুরি। বিভিন্ন তথ্যে single-disc ভেরিয়েন্টের দাম ৳1,99,000 থেকে শুরু হতে পারে বলে জানানো হয়েছে, যেখানে ডিটেইলড স্পেসিফিকেশনে dual discs এবং single-channel ABS-এর কথা উল্লেখ আছে। তাই কেনার আগে ডিলারের কাছ থেকে স্পেসিফিকেশন এবং রেজিস্ট্রেশন সহ মোট দামের লিখিত ব্রেকডাউন বুঝে নিন। সব মডেলে একই রকম ব্রেকিং ইকুইপমেন্ট নাও থাকতে পারে।
Honda SP160 ইঞ্জিন: স্পিডের চেয়ে টর্ক বেশি
Honda SP160-এ রয়েছে একটি single-cylinder, air-cooled, PGM-FI ইঞ্জিন যা ৭,৫০০ rpm-এ ১২.৯ bhp পাওয়ার এবং ৫,৫০০ rpm-এ ১৪ Nm টর্ক উৎপন্ন করে। সাথে আছে একটি 5-speed গিয়ারবক্স। কম rpm-এ টর্ক বেশি থাকায় এটি হাই-স্পিড রাইডিংয়ের চেয়ে শহরের জ্যামে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য দেবে। ১৪১ কেজি ওজনের এই বাইকটিকে লাইটওয়েট রেসিং মেশিন ভাবলে ভুল হবে, এটি মূলত একটি সলিড কমিউটার।
শহরের রাস্তায় এর এক্সিলারেশন এবং ওভারটেকিং ক্ষমতা বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। তবে হাইওয়েতে pillion নিয়ে বড় বাস ওভারটেক করার সময় কিছুটা সময় এবং পরিকল্পনার প্রয়োজন হতে পারে। বাইকটির ১২০ km/h top speed কোনো ভেরিফাইড ক্রুজিং স্পিড নয়। ড্যাশবোর্ডের ম্যাক্সিমাম স্পিডের চেয়ে ত্বরণ এবং ব্রেকিং ডিস্ট্যান্স বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকা ট্রাফিকে Honda SP160 Mileage
Honda SP160-এর আনুমানিক mileage প্রায় 45 km/l। তবে মনে রাখবেন, ফার্মগেট বা মিরপুরের জ্যামে ইঞ্জিন আইডল অবস্থায় থাকলে ফুয়েল খরচ হবেই কিন্তু দূরত্ব অতিক্রম হবে না, যা mileage কমিয়ে দিতে পারে। এছাড়া ঘনঘন হার্ড ব্রেক, অতিরিক্ত ওজন এবং সঠিক tyre pressure না থাকলেও ইকোনমি কমে যায়। Fuel injection সিস্টেম ফুয়েল ম্যানেজমেন্টে সাহায্য করলেও জ্যামের প্রভাব পুরোপুরি কমাতে পারে না।
এর ১২ লিটারের ফুয়েল ট্যাংক যাতায়াতের জন্য যথেষ্ট। মাইলেজ সঠিকভাবে বোঝার জন্য কয়েকবার ফুল ট্যাংক তেল নিয়ে নিজের স্বাভাবিক রাস্তায় চালিয়ে দেখুন। স্মুথ থ্রোটল ব্যবহার এবং সঠিক সময়ে service করা হলে ভালো মাইলেজ পাওয়া সম্ভব।
বাংলাদেশের রাস্তায় কমফোর্ট ও হ্যান্ডলিং
Honda SP160-এ সামনে telescopic fork এবং পেছনে mono-shock ব্যবহার করা হয়েছে। স্প্রিং রেট এবং পেছনের ওজনের ওপর নির্ভর করে এটি ভাঙা রাস্তায় কেমন আরাম দেবে। কেনার আগে অবশ্যই স্পিড ব্রেকার এবং খারাপ রাস্তায় একটি test ride নিয়ে দেখুন। সিটের উচ্চতা ৭৯৬ মিমি হওয়ায় মাঝারি উচ্চতার রাইডাররা এটি স্বাচ্ছন্দ্যে চালাতে পারবেন।
এর ১৭৫ মিমি ground clearance সাধারণ রাস্তার জন্য ভালো, তবে pillion থাকলে বড় স্পিড ব্রেকারে সাবধানে চালানো উচিত। এতে সামনে 80/100-17 এবং পেছনে 130/70-17 সাইজের tubeless tyres ব্যবহার করা হয়েছে। পেছনের চওড়া টায়ার লুক বাড়ালেও বৃষ্টির দিনে গ্রিপ বজায় রাখতে টায়ারের কন্ডিশন গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত পানিতে বাইক চালানো থেকে বিরত থাকুন, কারণ ground clearance মানে এই নয় যে এটি সাবমেরিনের মতো কাজ করবে।
Honda SP160 ব্রেকিং ও সেফটি
বাইকটিতে রয়েছে ২৭৬ মিমি ফ্রন্ট ডিস্ক এবং ২২০ মিমি রিয়ার ডিস্ক ও single-channel ABS। সামনের চাকায় অ্যান্টি-লক সুরক্ষা ইমার্জেন্সি ব্রেকিংয়ে সাহায্য করে, তবে মনে রাখবেন এটি dual-channel ABS নয়, তাই পেছনের চাকা লক হতে পারে। LED হেডলাইট এবং ডিজিটাল ক্লাস্টার বেশ আধুনিক, তবে রাতে হেডলাইটের আলো এবং কড়া রোদে ডিসপ্লের রিডেবিলিটি যাচাই করে নেওয়া উচিত। ABS কখনোই আপনার সেফ ডিস্ট্যান্স বা রাইডিং স্কিলের বিকল্প নয়।
বিল্ড কোয়ালিটি ও যা যা চেক করবেন
বাংলাদেশে অ্যাসেম্বল হওয়া Honda SP160 কেনার সময় প্যানেল অ্যালাইনমেন্ট, পেইন্ট ফিনিশ এবং ওয়ারিং সঠিকভাবে আছে কি না তা দেখে নিন। যদি সেকেন্ড হ্যান্ড বাইক কেনেন, তবে fork seals, steering bearings এবং চাকার অ্যালাইনমেন্ট চেক করুন। টেস্ট রাইডের সময় ইঞ্জিন থেকে কোনো অস্বাভাবিক ভাইব্রেশন বা গিয়ার শিফটিংয়ে সমস্যা হচ্ছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখা জরুরি।
সার্ভিস, মেইনটেন্যান্স এবং রিসেল ভ্যালু
বাংলাদেশে Honda-র শক্তিশালী ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক থাকায় এর সার্ভিস এবং পার্টস পাওয়া অন্য অনেক ব্র্যান্ডের তুলনায় সহজ। তবে আপনার নিকটস্থ ডিলারের কাছে ফিল্টার, ব্রেক প্যাড বা চেইন কিট সবসময় স্টকে থাকে কি না তা জেনে নিন। Honda-র ব্র্যান্ড ভ্যালু ভালো হওয়ার কারণে এর রিসেল ভ্যালুও সাধারণত সন্তোষজনক হয়, যদি বাইকটির কন্ডিশন এবং পেপারস ঠিক থাকে। তবে সার্ভিসিং খরচ সম্পর্কে আগেভাগেই শোরুম থেকে ধারণা নেওয়া ভালো।
প্রতিদ্বন্দ্বী এবং সিদ্ধান্ত
Honda SP160 কেনার কথা ভাবলে আপনি পাশাপাশি Bajaj Pulsar N160, TVS Apache RTR 160, Yamaha FZ FI এবং Suzuki Gixxer এর বর্তমান দাম এবং ফিচারগুলো দেখে নিতে পারেন। শুধুমাত্র লুক দেখে নয়, বরং হ্যান্ডলিং, পিলিয়ন কমফোর্ট এবং সার্ভিস সাপোর্টের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিন।
ভালো দিক (Pros)
- কমিউটার বান্ধব ইঞ্জিন স্পেসিফিকেশন যা মিড-রেঞ্জে ভালো পারফরম্যান্স দেয়।
- প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য Fuel injection এবং বড় ফুয়েল ট্যাংক।
- dual-disc ভার্সনে front ABS এর সুবিধা।
- উঁচু-নিচু রাস্তার জন্য ভালো মানের ground clearance।
- বাংলাদেশে Honda-র শক্তিশালী সার্ভিস নেটওয়ার্ক এবং ব্র্যান্ড ভ্যালু।
খারাপ দিক (Cons)
- সীমিত পাওয়ারের কারণে হাই-পারফরম্যান্স আশা করা কঠিন, বিশেষ করে pillion থাকলে।
- Single-channel ABS হওয়ায় পেছনের চাকায় অ্যান্টি-লক সুরক্ষা নেই।
- ঢাকার প্রচণ্ড জ্যামে ৪টি আনুমানিক mileage কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- ১৪১ কেজি weight হওয়ার কারণে নতুন রাইডারদের জন্য পার্কিং করা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
- ভেরিয়েন্ট ভেদে ফিচার আলাদা হওয়ায় দাম এবং ইকুইপমেন্ট ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।
শেষ কথা (Verdict)
যারা প্রতিদিনের যাতায়াতের জন্য নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স এবং ব্র্যান্ড ভ্যালু খুঁজছেন, তাদের জন্য Honda SP160 একটি চমৎকার পছন্দ। তবে আপনি যদি হাইওয়েতে সুপার-ফাস্ট এক্সিলারেশন বা ডুয়াল চ্যানেল ABS চান, তবে এটি আপনাকে কিছুটা হতাশ করতে পারে। কেনার আগে নির্দিষ্ট ভেরিয়েন্ট, ব্রেকিং সিস্টেম এবং পার্টস অ্যাভেইলিবিলিটি নিশ্চিত হয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কেবল Honda লোগো দেখে নয়, বাইকের উপযোগিতা বুঝে বিনিয়োগ করুন।






