Honda Hornet 2.0 review: বাংলাদেশে ownership এবং প্রয়োজনীয় তথ্য
Honda Hornet 2.0 মূলত সেই সব বাংলাদেশি ক্রেতাদের জন্য তৈরি, যারা সাধারণ কমিউটার বাইকের চেয়ে শক্তিশালী কিছু খুঁজছেন কিন্তু খুব ভারী বা দামী মোটরসাইকেলে যেতে চাইছেন না। এর বর্তমান price ২,৮৯,০০০ Tk/৳; তবে বাজেট করার আগে শোরুমের বর্তমান অফার এবং registration খরচ যাচাই করে নিন। এই বাইকটির মূল আকর্ষণ হলো এর fuel-injected ইঞ্জিন, দারুণ torque, upside-down fork এবং Honda-র সার্ভিস সাপোর্ট। তবে single-channel ABS এবং মাঝারি মানের টপ-এন্ড পারফরম্যান্স কিছুটা ভাবনার বিষয়। এই রিভিউটি টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন এবং ব্যবহারিক দিকগুলোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
কাদের Honda Hornet 2.0 কেনা উচিত?
Honda Hornet 2.0 তাদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত যারা ঢাকা বা চট্টগ্রামের মতো শহরে যাতায়াত করেন এবং সপ্তাহান্তে শহরের বাইরে রাইড করেন। এর 184cc ইঞ্জিন এবং ১৪২ কেজি ওজন প্রতিদিনের ব্যবহারযোগ্যতা এবং দ্রুত গতির মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখে। যারা মাসকুলার স্টাইলিং, নামী ব্র্যান্ডের সাসপেনশন এবং বিশ্বস্ত সার্ভিসিংকে গুরুত্ব দেন, তারা এই বাইকটি পছন্দ করবেন।
তবে যারা খুব কম টাকায় সর্বোচ্চ গতি বা পারফরম্যান্স খুঁজছেন, নিয়মিত পিলিয়ন নিয়ে গ্রাম্য ভাঙা রাস্তায় চলেন, কিংবা দুই চাকায়ই ABS সুরক্ষা চান, তাদের জন্য এটি খুব একটা জুতসই নাও হতে পারে। Honda Hornet 2.0-কে একটি ছোট ট্যুরিং মেশিন বা হাই-পারফরম্যান্স বাইক না ভেবে, একটি উন্নত মানের প্রতিদিনের ব্যবহারের মোটরসাইকেল হিসেবে দেখা ভালো।
Honda Hornet 2.0 ইঞ্জিন: ভালো টান, কিন্তু খুব বেশি গতি নয়
Honda Hornet 2.0 ইঞ্জিন থেকে ৮,৫০০ rpm-এ ১৬.৪ bhp পাওয়ার এবং ৬,০০০ rpm-এ ১৫.৯ Nm torque পাওয়া যায়। এর মানে হলো সর্বোচ্চ পাওয়ার পাওয়ার আগেই বাইকটি বেশ ভালো টান বা এক্সিলারেশন দিতে পারে। তবে এটি মূলত শহরের ট্রাফিকে দ্রুত মুভ করার জন্য তৈরি, হাইওয়েতে খুব বেশি টপ-স্পিড দেওয়ার জন্য নয়।
এতে রয়েছে air-cooled, single-cylinder ইঞ্জিন যাতে fuel injection এবং ৫-স্পিড গিয়ারবক্স ব্যবহার করা হয়েছে। হাইওয়েতে ওভারটেক করার সময় শুধুমাত্র ইঞ্জিনের শক্তির ওপর ভরসা না করে গিয়ার ডাউনশিফট করার প্রয়োজন হতে পারে। বাইকটির আনুমানিক top speed ১২৫ km/h বলা হলেও এটি সব সময় পাওয়া যাবে এমন গ্যারান্টি নেই। এই naked বাইকটিতে বাতাসের চাপ বেশি অনুভূত হতে পারে। তবে এর assist and slipper clutch বারবার গিয়ার পরিবর্তন এবং ডাউনশিফটের সময় ইঞ্জিন ব্রেকিং নিয়ন্ত্রণে বেশ সাহায্য করে।
ঢাকার ট্রাফিকে ফুয়েল ইকোনমি বা মাইলেজ
Honda Hornet 2.0-এর আনুমানিক ৩৫ km/l মাইলেজকে একটি রেফারেন্স হিসেবে ধরুন, ধ্রুব সত্য হিসেবে নয়। যানজটে আটকে থাকা, দীর্ঘক্ষণ ইঞ্জিন চালু রাখা এবং ঘনঘন ব্রেক ও এক্সিলারেশন মাইলেজ কমিয়ে দিতে পারে। হাইওয়েতে শান্তভাবে চালালে মাইলেজ ভিন্ন হতে পারে। এক ট্রিপের ওপর নির্ভর না করে কয়েকবার ফুল ট্যাঙ্ক রিফিল করে মাইলেজ মেপে দেখা উচিত।
এর ১২ লিটারের ফুয়েল ট্যাঙ্ক প্রতিদিনের যাতায়াতের জন্য যথেষ্ট। সঠিক tyre pressure রাখা, এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার রাখা এবং চেইন মেইনটেইন করা ভালো মাইলেজ পাওয়ার জন্য জরুরি। উচ্চ গিয়ারে ইঞ্জিনকে অযথা চাপ দিয়ে চালালে মাইলেজ কমে যেতে পারে।
Honda Hornet 2.0 কমফোর্ট এবং রাইডিং অভিজ্ঞতা
এই বাইকের seat height ৭৯০ mm, তবে রাইডার মাটিতে পা পৌঁছাতে পারবেন কিনা তা সিটের চওড়া এবং রাইডারের উচ্চতার ওপর নির্ভর করে। কেনার আগে পিলিয়নসহ বসে দেখুন বাইকটি আপনার জন্য আরামদায়ক কিনা। সিটটি দীর্ঘ ভ্রমণের জন্য কতটা উপযোগী তা নিজে যাচাই করে নিন।
Showa upside-down fork এবং রিয়ার mono-shock থাকা মানেই যে রাইড খুব আরামদায়ক হবে এমন নয়। বাংলাদেশের ভাঙা রাস্তায় এবং স্পিড ব্রেকারে এটি কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায় তা পরখ করে দেখুন। এর ১৬৫ mm ground clearance খুব বেশি উঁচু স্পিড ব্রেকারে ঘষা খেতে পারে, বিশেষ করে পেছনে পিলিয়ন থাকলে। ১,৩৫০ mm wheelbase এবং কম ওজনের কারণে এটি শহরের ট্রাফিকে সহজে কন্ট্রোল করা যায়।
বাইকটিতে ১১০/৭০-১৭ সামনের এবং ১৪০/৬০-১৭ পেছনের tubeless tyres রয়েছে। চওড়া টায়ার মানেই যে ভেজা রাস্তায় খুব ভালো গ্রিপ পাওয়া যাবে এমন নয়, তাই পিচ্ছিল বা কাদা রাস্তায় সাবধানে চালানো উচিত। মনে রাখবেন, ground clearance ভালো হলেও এটি কোনো ওয়াটার-প্রুফ বাইক নয়, তাই গভীর পানিতে রাইড করবেন না।
ব্রেকিং এবং সেফটি: একটি গুরুত্বপূর্ণ আপস
Honda Hornet 2.0-এর দুই চাকাতেই petal discs থাকলেও এর Bosch ABS শুধুমাত্র single-channel। অর্থাৎ, ভেজা বা আলগা রাস্তায় জোরে ব্রেক করলে পেছনের চাকা লক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সামনের চাকায় ABS থাকাটা ভালো, কিন্তু এই দামের অন্য বাইকগুলোর সাথে তুলনা করলে dual-channel ABS থাকাটা বেশি নিরাপদ হতো।
Slipper clutch থাকা মানে এই নয় যে আপনাকে ব্রেকিং টেকনিক শিখতে হবে না। এছাড়াও এতে side-stand engine cut-off, LED headlight এবং digital cluster রয়েছে। কেনার সময় সাইড স্ট্যান্ড সুইচ এবং হেডলাইটের আলো ঠিকমতো কাজ করছে কিনা তা যাচাই করে নিন।
বিল্ড কোয়ালিটি এবং যা চেক করতে হবে
Honda Hornet 2.0 বাংলাদেশে অ্যাসেম্বল করা হয়, তবে ডেলিভারি নেওয়ার আগে ফিনিশিং ভালো করে চেক করা উচিত। রং, প্যানেল অ্যালাইনমেন্ট, ক্যাবল এবং ইলেকট্রিক্যাল কানেকশনগুলো দেখে নিন। যদি সেকেন্ড হ্যান্ড বাইক কেনেন, তবে fork seals, চেইন-স্প্রকেট এবং ব্রেক ডিস্ক ভালো করে পরীক্ষা করুন।
সার্ভিস রেকর্ড চেক করুন এবং বাইকটিতে কোনো অস্বাভাবিক শব্দ বা ইঞ্জিন স্টার্ট হতে সমস্যা হচ্ছে কিনা তা দেখে নিন। চকচকে লুক দেখে বিভ্রান্ত না হয়ে বাইকটির যান্ত্রিক অবস্থা যাচাই করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
সার্ভিস, পার্টস এবং রিসেল ভ্যালু
বাংলাদেশে Honda-র শক্তিশালী অবস্থান থাকার কারণে Hornet 2.0-এর পার্টস পাওয়া ছোট আমদানিকারকদের বাইকের তুলনায় সহজ। তবে নির্দিষ্ট কিছু পার্টস যেমন ফিল্টার, ব্রেক প্যাড বা upside-down fork-এর যন্ত্রাংশ সব সময় স্টকে নাও থাকতে পারে। শোরুমে এসব পার্টসের প্রাপ্যতা সম্পর্কে আগেই জেনে নিন।
এর এয়ার কুলড ইঞ্জিন মেইনটেইন করা সহজ হলেও চওড়া টায়ার বা ইলেকট্রিক্যাল পার্টস নষ্ট হলে মেরামতের খরচ বেশি হতে পারে। Honda-র ব্র্যান্ড ভ্যালুর কারণে রিসেল ভ্যালু সাধারণত ভালো হয়, তবে তা বাইকের কন্ডিশন এবং সঠিক পেপারস-এর ওপর নির্ভর করে।
প্রতিযোগী এবং কেনার সিদ্ধান্ত
এই বাইকটি কেনার আগে বাজারে থাকা Suzuki Gixxer, Yamaha FZ, TVS Apache RTR এবং Bajaj Pulsar N-series-এর বাইকগুলোর সাথে তুলনা করে দেখুন। শুধুমাত্র স্পেসিফিকেশন না দেখে বাস্তবে শোরুমে গিয়ে বাইকগুলো চালিয়ে দেখুন। আপনার নিয়মিত যাতায়াতের রাস্তা এবং পিলিয়ন কমফোর্টের কথা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নিন। Hornet-এর ফর্ক এবং ক্লাচ দারুণ আকর্ষণীয় হলেও আপনার শরীরের গঠন অনুযায়ী অন্য কোনো ব্র্যান্ডের বাইকও আপনার জন্য বেশি আরামদায়ক হতে পারে।
ভালো দিক (Pros)
- প্রতিদিনের রাইডিংয়ের জন্য displacement এবং ওজনের দারুণ ভারসাম্য।
- Fuel injection এবং assist and slipper clutch প্রযুক্তি।
- উন্নতমানের Showa upside-down fork।
- বাংলাদেশে Honda-র শক্তিশালী সার্ভিস নেটওয়ার্ক।
- কাগজে-কলমে seat height বেশ সহনশীল; ব্যক্তিগতভাবে চেক করে নেওয়া ভালো।
খারাপ দিক (Cons)
- Single-channel ABS থাকার কারণে পেছনের চাকায় অ্যান্টি-লক সুরক্ষা নেই।
- পারফরম্যান্স-কেন্দ্রিক রাইডারদের কাছে এর গতি কিছুটা কম মনে হতে পারে।
- লোডেড অবস্থায় ভাঙা রাস্তায় চালানোর সময় এর ground clearance নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
- মডেল-স্পেসিফিক পার্টস এবং চওড়া tubeless tyres বদলানোর খরচ কিছুটা বেশি হতে পারে।
শেষ কথা (Verdict)
২,৮৯,০০০ Tk/৳ মূল্যে Honda Hornet 2.0 একটি নির্ভরযোগ্য বাইক, বিশেষ করে যারা Honda-র সার্ভিস এবং ভালো বিল্ড কোয়ালিটি খুঁজছেন। তবে কেনার আগে এর সিঙ্গেল চ্যানেল ABS-এর সীমাবদ্ধতা এবং পার্টসের খরচের কথা মাথায় রাখুন। আপনার যদি dual-channel ABS খুব বেশি প্রয়োজন হয়, তবে অন্যান্য বিকল্পগুলো যাচাই করে দেখা উচিত। সব মিলিয়ে শহর এবং হাইওয়ের মিশ্র ব্যবহারের জন্য এটি একটি ভারসাম্যপূর্ণ মোটরসাইকেল।







