Benelli 165S Review: বাংলাদেশে ownership এবং কেনার গাইড
Benelli 165S হলো একটি naked motorcycle, যা বাংলাদেশের রাইডারদের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে যারা গতানুগতিক কমিউটার বাইকের বাইরে ভিন্ন কিছু খুঁজছেন। Tk 225,500 মূল্যে তালিকাভুক্ত এই বাইকটিতে রয়েছে ১৬৫ সিসির EFI ইঞ্জিন, একটি six-speed gearbox এবং ব্র্যান্ডের নিজস্ব আভিজাত্য। তবে কেনার আগে শুধু ফিচার দেখলে চলবে না। এই অ্যাসেসমেন্টটি বাইকটির স্পেসিফিকেশন এবং স্থানীয় প্রেক্ষাপটের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, এটি কোনো দীর্ঘমেয়াদী ব্যক্তিগত টেস্ট রিপোর্ট নয়। পেমেন্ট করার আগে স্টকের অবস্থা, সঠিক স্পেসিফিকেশন এবং বিক্রয়োত্তর সেবা যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
কাদের জন্য Benelli 165S সেরা?
Benelli 165S তাদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত যারা প্রতিদিনের যাতায়াতের পাশাপাশি শখের রাইড এবং মাঝেমধ্যে হাইওয়ে ট্রাভেল করতে চান। এটি সাধারণ প্র্যাকটিক্যাল বাইকের তুলনায় অনেক বেশি স্পোর্টিং অনুভূতি দেয়, অথচ ইঞ্জিনটি খুব বেশি বড় ক্লাসের নয়। যারা গিয়ার পরিবর্তন করতে পছন্দ করেন এবং বাইকের স্বতন্ত্র লুক পছন্দ করেন, তাদের এটি ভালো লাগতে পারে। তবে যারা খুব সহজ মেইনটেন্যান্স, নিশ্চিত resale ভ্যালু এবং ঝামেলামুক্ত সার্ভিসকে প্রাধান্য দেন, তাদের প্রতিষ্ঠিত বিকল্পগুলোর সাথে এটি তুলনা করা উচিত।
Benelli 165S ইঞ্জিন: টর্কের চেয়ে রেভ-এর গুরুত্ব বেশি
Benelli 165S বাইকটি ৯৫০০ rpm-এ ১৭.৮৪ bhp এবং ৭০০০ rpm-এ ১৪ Nm টর্ক প্রদান করে। এই হাই পিক স্পিড দেখে বোঝা যায় যে, ইঞ্জিনটি অলসভাবে চালানোর চেয়ে হাই রেভ-এ চালালে বেশি ভালো পারফরম্যান্স দেবে। ১৪৭ কেজি ওজনের এই বাইকটিকে কেবল সিসি (displacement) দিয়ে বিচার করা ঠিক হবে না; বিশেষ করে ওভারটেকিংয়ের সময় রাইডার, পিলিয়ন এবং মালামালসহ সঠিক গিয়ার নির্বাচন করা খুব জরুরি।
ঢাকার ট্রাফিক জ্যামে লো-স্পিড টর্কের ওপর নির্ভর করার চেয়ে গিয়ারবক্সের সঠিক ব্যবহার বেশি প্রয়োজন হবে। এর six-speed manual গিয়ারবক্স রাইডিংয়ে ভালো ভারসাম্য দিলেও এটি যে হাইওয়েতে খুব রিল্যাক্সড হবে এমন গ্যারান্টি দেয় না। আনুমানিক ১৩৫ km/h top speed কোনো ভেরিফাইড রোড-টেস্ট রেজাল্ট নয়। নিরাপদ ওভারটেকিং রাস্তার অবস্থা, ইঞ্জিনের রেসপন্স এবং লোডের ওপর নির্ভর করে, কেবল সর্বোচ্চ গতির ওপর নয়।
একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের অমিল লক্ষ্য করা গেছে: ইঞ্জিনের বিবরণে এটি air-cooled বলা হলেও কুলিং ফিল্ডে liquid-cooled লেখা আছে। দুটি একসাথে সঠিক হতে পারে না। তাই বাইকটি কেনার সময় সরাসরি পরিদর্শন করুন এবং বিক্রেতার কাছ থেকে সঠিক ডকুমেন্টেশন বুঝে নিন। কুলিং সিস্টেমের ওপর সার্ভিসিং এবং পার্টসের প্রয়োজনীয়তা নির্ভর করে।
ঢাকার ট্রাফিকে ফুয়েল ইকোনমি বা Mileage
Benelli 165S-এর mileage দাবি করা হয়েছে প্রায় ৩৫ km/l, তবে ঢাকার ট্রাফিকে এটি নিশ্চিত কোনো ফলাফল নয়। বারবার কোল্ড স্টার্ট, জ্যামে বসে থাকা এবং দ্রুত এক্সিলারেশন এর দক্ষতা কমিয়ে দিতে পারে। EFI ফুয়েল ম্যানেজমেন্টে সাহায্য করলেও স্টপ সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তেলের খরচ কমাতে পারে না। ড্যাশবোর্ড বা বিক্রেতার তথ্যের ওপর নির্ভর না করে কয়েকবার ফুল ট্যাঙ্ক রিফিল করে নিজের রুটে মাইলেজ পরীক্ষা করুন।
বাইকটিতে ১০ লিটারের একটি ফুয়েল ট্যাঙ্ক রয়েছে, তাই লম্বা ট্যুরে যাওয়ার আগে জ্বালানির পরিকল্পনা করে নেওয়া উচিত। ট্যাঙ্কের মোট ধারণক্ষমতাকে মাইলেজ দিয়ে গুণ করে রাইডিং রেঞ্জ হিসাব করা ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিদিনের যাতায়াতের ক্ষেত্রে যে কোনো কাল্পনিক সংখ্যার চেয়ে বাস্তবসম্মত মাইলেজ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় রাস্তায় Benelli 165S-এর কমফোর্ট এবং হ্যান্ডলিং
Telescopic forks এবং অ্যাডজাস্টেবল রিয়ার monoshock সমৃদ্ধ Benelli 165S-এ প্রথাগত সাসপেনশন লেআউট ব্যবহার করা হয়েছে। তবে রাইড কোয়ালিটি বোঝার জন্য এটি ভাঙাচোরা রাস্তায় চালিয়ে দেখা উচিত। বিশেষ করে পিলিয়নসহ রাইডিংয়ের সময় ঝাঁকুনি সরাসরি পিঠে লাগে কি না এবং সাসপেনশন দ্রুত সেটেল হয় কি না তা দেখে নিন। রিয়ার সাসপেনশন অ্যাডজাস্টমেন্ট কীভাবে কাজ করে তা শোরুম থেকে বুঝে নিন।
বাইকটির ১৭০ মিমি ground clearance স্পিড ব্রেকার পার হওয়ার জন্য সহায়ক, তবে পিলিয়ন থাকলে নিচ ঘষা লাগবে না এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। Seat height নির্দিষ্ট করা নেই, তাই খাটো রাইডারদের উচিত সরাসরি বাইকে বসে দেখা তারা মাটি স্পর্শ করতে পারছেন কি না। পেছনের দিকে বাইক সরানোর সময় এর ১৪৭ কেজি ওজন মাথায় রাখতে হবে। স্প্লিট সিটের কুশনিং এবং পিলিয়নের বসার জায়গা পর্যাপ্ত কি না তা-ও পরখ করে দেখা দরকার।
Benelli 165S-এর alloy wheels-এ সামনে ১০০/৮০-১৭ এবং পেছনে ১৩০/৭০-১৭ সাইজের tubeless tyres ব্যবহার করা হয়েছে। টায়ারের প্রস্থের চেয়ে ব্র্যান্ড এবং কন্ডিশন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভেজা রাস্তা বা কাদাটে রাস্তায় সতর্ক থাকা উচিত। মনে রাখবেন, গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স মানেই পানিতে চলার সক্ষমতা নয়; জলাবদ্ধ রাস্তা এড়িয়ে চলুন যাতে পানি ইনটেকে ঢুকে দামি পার্টস নষ্ট না হয়।
ব্রেকিং: CBS কোনোভাবেই ABS নয়
Benelli 165S-এ সামনে ২৬০ মিমি এবং পেছনে ২২০ মিমি disc brake রয়েছে এবং সেই সাথে CBS দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এতে কোনো ABS নেই। বিশেষ করে বৃষ্টিতে বা বালুযুক্ত রাস্তায় ইমার্জেন্সি ব্রেকিংয়ের সময় বাংলাদেশে ABS না থাকা একটি বড় অভাব। CBS দুই চাকার ব্রেকিংকে একসাথে যুক্ত করে কিন্তু চাকা লক হওয়া রোধ করে না। এছাড়া বাইকের LED headlight রাতে পর্যাপ্ত আলো দেয় কি না তা-ও চেক করে নেওয়া উচিত।
বিল্ড কোয়ালিটি এবং চেক লিস্ট
Benelli 165S-এর নির্দিষ্ট কোনো কমন সমস্যা নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। কেনার সময় ঝালাই বা ওয়েল্ডিংয়ের চারপাশের রঙ, ফাস্টেনার, প্যানেলের এলাইনমেন্ট, ইলেকট্রিক্যাল কানেক্টর এবং সুইচের কাজ ঠিকমতো হচ্ছে কি না দেখে নিন। ডিজিটাল ক্লাস্টারে আর্দ্রতা বা ডিসপ্লেতে কোনো সমস্যা আছে কি না তাও লক্ষ্য করুন।
ব্যবহৃত বা সেকেন্ড হ্যান্ড বাইক কেনার ক্ষেত্রে কোল্ড স্টার্ট দিয়ে দেখুন কোনো অস্বাভাবিক শব্দ, ধোঁয়া বা লিক আছে কি না। ক্লাচ এনগেজমেন্ট, গিয়ার সিলেকশন, ফর্ক সিল এবং চেইনের অবস্থা যাচাই করুন। সার্ভিস রেকর্ড এবং নিয়মিত মেইনটেন্যান্সের প্রমাণ কোনো মৌখিক আশ্বাসের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য।
সার্ভিসিং, পার্টস এবং Resale ভ্যালু
বাংলাদেশের বাজারে Aftab Automobiles Limited হলো Benelli 165S-এর পরিবেশক। বর্তমানে তাদের অনুমোদিত সার্ভিস সাপোর্ট সচল আছে কি না নিশ্চিত হয়ে নিন। জাপানি বা ভারতীয় ব্র্যান্ডের তুলনায় এর সার্ভিস নেটওয়ার্ক ছোট হতে পারে। পার্টসের সহজলভ্যতা এবং ওয়ার্কশপ অ্যাক্সেস নিশ্চিত করাটাই সবচেয়ে জরুরি।
বাইকটি কেনার আগে ফিল্টার, ব্রেক প্যাড, ক্লাচ পার্টস, চেইন-স্প্রকেট সেট এবং সেন্সরের দাম ও প্রাপ্যতা সম্পর্কে লিখিত তথ্য নিন। নিয়মিত সার্ভিসিং সহজ হলেও মডেল-নির্দিষ্ট ইলেকট্রিক্যাল বা বডি পার্টস পেতে দেরি হতে পারে। EFI সমস্যার জন্য দক্ষ মেকানিক বা ডায়াগনস্টিক টুল আছে কি না জেনে নিন।
Resale ভ্যালু নিয়ে এই বাইকটির ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা আছে। পরিচিত ব্র্যান্ডের তুলনায় এটি বিক্রি করতে সময় বেশি লাগতে পারে। বাংলাদেশে এর বিকল্প হিসেবে Suzuki Gixxer, Yamaha FZ series, TVS Apache RTR series এবং Bajaj Pulsar মডেলগুলোর সাথে তুলনা করে দেখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
ভালো দিক (Pros)
- স্পোর্টিং ইঞ্জিন স্পেসিফিকেশন যা হাই rev range ব্যবহারকারী রাইডারদের পছন্দ হবে।
- Six-speed transmission এবং EFI প্রতিদিনের রাইডিংয়ের জন্য বেশ কার্যকর।
- Tubeless tyres এবং alloy wheels ব্যবহারিক সুবিধা প্রদান করে।
- তালিকায় থাকা রিয়ার সাসপেনশন অ্যাডজাস্টমেন্ট সুবিধা সেটআপে কিছুটা নমনীয়তা দেয়।
খারাপ দিক (Cons)
- disc brake এবং CBS থাকা সত্ত্বেও কোনো ABS নেই।
- কুলিং সিস্টেম (cooling specification) নিয়ে তথ্যে গরমিল রয়েছে, যা যাচাই করা প্রয়োজন।
- সার্ভিসিং নেটওয়ার্ক এবং মডেল-নির্দিষ্ট parts এর সহজলভ্যতা স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
- seat height, বাস্তব জীবনের mileage এবং resale ভ্যালু সম্পর্কে কোনো প্রমাণিত তথ্য নেই।
শেষ কথা (Verdict)
Benelli 165S বাইকটি এর স্পোর্টিং স্পেসিফিকেশন এবং ইউনিক লুকের জন্য পছন্দের তালিকায় রাখা যেতে পারে, তবে এটি কোনো ঝুঁকিমুক্ত কেনাকাটা নয়। সন্তোষজনক টেস্ট রাইড, কুলিং সিস্টেম যাচাই এবং পার্টস ও সার্ভিসের নিশ্চয়তা পাওয়ার পরেই এটি কেনা উচিত। যদি বৃষ্টির দিনে ব্রেকিং নিরাপত্তা (ABS), সহজে বিক্রি করার সুবিধা এবং সর্বত্র সার্ভিস পাওয়া আপনার অগ্রাধিকার হয়, তবে প্রতিষ্ঠিত অন্য কোনো ABS-যুক্ত বাইক বেছে নেওয়াই শ্রেয়।




