Benelli TNT 135 review: বাংলাদেশে ownership এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা
Benelli TNT 135 একটি ছোট আকারের নেকড মোটরসাইকেল যার রয়েছে এক অনন্য নিজস্বতা। এর চঙ্কি টায়ার, কম্প্যাক্ট গঠন এবং upside-down fork একে সাধারণ কমিউটার বাইকের চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বাংলাদেশে এর price ১৭০,৫০০ ৳ এবং এটি বর্তমানে অ্যাভেইলেবল রয়েছে। তবে এটি কেনার আগে এর পারফরম্যান্স এবং ব্যবহারিক দিকগুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত। এই রিভিউটি মূলত স্পেসিফিকেশন এবং ওনারশিপ অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি; তাই শোরুমে গিয়ে বর্তমান স্টক, ওয়ারেন্টি এবং সার্ভিস (service) সাপোর্ট যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
কার জন্য Benelli TNT 135?
Benelli TNT 135 মূলত তাদের জন্য যারা শহরের ভেতর রাইড করেন এবং বাইকের ক্যারেক্টার ও কম্প্যাক্ট সাইজকে বেশি গুরুত্ব দেন। এর ১২১ কেজি ওজন ট্রাফিক জ্যামে বা পার্কিংয়ের সময় বেশ সহায়ক। এর ৭৮০ মিমি seat height কাগজে-কলমে সুবিধাজনক মনে হলেও, কেনার আগে সিটের প্রস্থ এবং আপনার উচ্চতা অনুযায়ী পা মাটিতে পৌঁছাচ্ছে কি না তা যাচাই করে নিন।
তবে দীর্ঘ highway ভ্রমণ বা নিয়মিত পিলিয়ন নিয়ে চলাচলের জন্য এটি খুব একটা সুবিধাজনক নয়। এর স্প্লিট-সিট লেআউট প্যাসেঞ্জারের জন্য খুব বেশি আরামদায়ক নাও হতে পারে। কেনার আগে আপনার নিয়মিত পিলিয়নকে সাথে নিয়ে বসে দেখুন knee room এবং grab points ঠিক আছে কি না।
Benelli TNT 135 ইঞ্জিন: রেভ এবং পাওয়ার ডেলিভারি
এই বাইকে রয়েছে ১৩৫ সিসি, single-cylinder, air-cooled ইঞ্জিন যাতে ৪টি ভালভ, SOHC এবং carburetor ব্যবহার করা হয়েছে। এর ১৩ bhp পাওয়ার পাওয়া যায় ৯০০০ rpm-এ এবং ১০.৮ Nm টর্ক পাওয়া যায় ৭০০০ rpm-এ। এই পরিসংখ্যান বলে যে, ইঞ্জিনটি হাই রেভে ভালো পারফর্ম করে। দ্রুত এক্সিলারেশন বা পিলিয়ন নিয়ে চালানোর সময় আপনাকে পাঁচ-স্পিড গিয়ারবক্সের সঠিক ব্যবহার করতে হবে।
শহরে চলাচলের জন্য এর হালকা ওজন পারফরম্যান্সকে প্রাণবন্ত করে তোলে। তবে highway-তে ওভারটেকিংয়ের সময় এর সিসি এবং টর্ক কিছুটা সীমাবদ্ধ মনে হতে পারে। এর ১১০ km/h top speed-এর দাবিটি কেবল একটি সংখ্যা মাত্র, হাইওয়েতে নিরাপদ রাইডিংয়ের জন্য এক্সিলারেশনের কিছুটা ব্যাকআপ হাতে রাখা জরুরি।
ঢাকা ট্রাফিকে ফুয়েল ইকোনমি বা মাইলেজ
Benelli TNT 135-এর আনুমানিক mileage প্রায় ৪০ km/l বলা হলেও, ঢাকার জ্যামে সবসময় এটি পাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। ট্রাফিক জ্যামে দীর্ঘক্ষণ ইঞ্জিন চালু রাখা, ঘনঘন এক্সিলারেশন, পিলিয়ন এবং টায়ার প্রেশারের ওপর মাইলেজ নির্ভর করে। এছাড়া carburetor-এর টিউনিংও এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে।
এর ৭.২ লিটারের ফুয়েল ট্যাঙ্ক কিছুটা ছোট, তাই রাইড প্ল্যান করার সময় এটি মাথায় রাখা উচিত। ভালো মাইলেজ পেতে এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার রাখা এবং সঠিক গিয়ারে বাইক চালানো জরুরি। কেবল ছোট ইঞ্জিন মানেই যে বিশাল মাইলেজ পাওয়া যাবে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
খারাপ রাস্তায় Benelli TNT 135-এর রাইড কোয়ালিটি
বাইকটিতে সামনে telescopic USD fork এবং পেছনে lateral rear shock absorber দেওয়া হয়েছে। যদিও এটি দেখতে বেশ প্রিমিয়াম, তবে খারাপ রাস্তায় এর পারফরম্যান্স কেমন হবে তা এর ড্যাম্পিং এবং সেটআপের ওপর নির্ভর করে। ছোট চাকা বা small-diameter wheels হওয়ার কারণে গভীর potholes বা ভাঙা রাস্তায় বেশ সাবধানে চালাতে হবে।
এর ground clearance হলো ১৬০ মিমি। এটি রাইড করার সময় স্পিড ব্রেকারে কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, বিশেষ করে পেছনে পিলিয়ন থাকলে। বৃষ্টির দিনে ভিজে রাস্তায় এর tubeless tyres কতটুকু গ্রিপ দেবে তা টায়ারের কম্পাউন্ড এবং বয়সের ওপর নির্ভর করে। তাই জলাবদ্ধ রাস্তায় বা পিচ্ছিল মোড়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
ব্রেকিং এবং সেফটি: যেখানে ঘাটতি রয়েছে
Benelli TNT 135-এর উভয় চাকায় disc brakes থাকলেও এতে কোনো ABS নেই। বাংলাদেশের রাস্তার ধুলোবালি, কাদা বা বৃষ্টির দিনে হঠাৎ হার্ড ব্রেক করার সময় ABS-এর অভাব অনুভব হতে পারে। ডিস্ক ব্রেক থাকলেও চাকা লক হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, তাই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে প্রগ্রেসিভ ব্রেকিং টেকনিক ব্যবহার করা জরুরি।
ডিজিটাল স্পিডোমিটার এবং ইঞ্জিন কিল সুইচ দৈনন্দিন ব্যবহারে সুবিধা দেবে। তবে ৩৫/৩৫ ওয়াটের হ্যালোজেন হেডলাইট হাইওয়েতে রাতে চালানোর জন্য পর্যাপ্ত কি না, তা যাচাই করে দেখা উচিত। অন্ধকারে ভিজিবিলিটি চেক করে প্রয়োজনে লাইট আপগ্রেড করে নেওয়া যেতে পারে।
বিল্ড কোয়ালিটি এবং যা চেক করা প্রয়োজন
বাইকটি কেনার আগে এর পেইন্ট ফিনিশিং, ওয়েল্ডিং, সুইচ গিয়ার এবং ওয়ারিং কানেকশনগুলো ভালো করে দেখে নিন। যদি পুরোনো বা ব্যবহৃত বাইক কেনেন, তবে fork-seal লিকেজ, টায়ারের অবস্থা এবং চেইন ঠিক আছে কি না তা যাচাই করুন। বিশেষ করে বাইকটি ঠান্ডা অবস্থায় স্টার্ট দিয়ে idle stability এবং throttle response পরীক্ষা করে নিন। kick এবং electric start উভয়ই ঠিকঠাক কাজ করছে কি না তাও দেখে নেওয়া উচিত।
সার্ভিসিং, পার্টস এবং রিসেল ভ্যালু
বাংলাদেশে Aftab Automobiles Limited এই বাইকটির ডিস্ট্রিবিউশন দেখে থাকে। কেনার আগে আপনার এলাকায় তাদের সার্ভিস সেন্টার বা workshop আছে কি না নিশ্চিত হয়ে নিন। জাপানি বা ইন্ডিয়ান ব্র্যান্ডের মতো এর পার্টস হয়তো সবখানে পাওয়া যাবে না, তাই ব্রেক প্যাড, ক্যাবল, ফিল্টার বা টায়ারের মতো জরুরি পার্টসগুলোর স্টক শোরুমে আছে কি না তা আগেই জেনে নিন।
রিসেল ভ্যালুর ক্ষেত্রেও সচেতন থাকা প্রয়োজন। এই বাইকটি যেহেতু একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির রাইডারদের পছন্দ, তাই সাধারণ কমিউটার বাইকের মতো এটি দ্রুত বা বেশি দামে বিক্রি করা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। কেনার আগেই রিসেল মার্কেট এবং ডিলার অফার সম্পর্কে ধারণা নিন।
বিকল্প কিছু অপশন (Alternatives)
Benelli TNT 135-এর কথা ভাবলে আপনি পাশাপাশি Bajaj Pulsar, TVS Apache, Suzuki Gixxer বা Yamaha FZ সিরিজের বাইকগুলোও দেখতে পারেন। যদিও এগুলো আকারে বড়, তবে পারফরম্যান্স এবং পিলিয়ন কমফোর্টের দিক থেকে এগুলো ভালো বিকল্প হতে পারে। বেনেলির প্রধান আকর্ষণ হলো এর ইউনিক লুক এবং কম্প্যাক্ট ডিজাইন।
ভালো দিক (Pros)
- ইউনিক কম্প্যাক্ট স্টাইলিং যা শহরের রাস্তায় নজর কাড়বে
- ১২১ কেজি ওজন এবং ৭৮০ মিমি seat height হওয়ার কারণে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ
- Rev-oriented ইঞ্জিন যা শহরের রাইডিংকে আনন্দদায়ক করে তোলে
- উভয় চাকাতেই tubeless tyres এবং disc brakes রয়েছে
- সহজ ও সাধারণ air-cooled ইঞ্জিন লেআউট
খারাপ দিক (Cons)
- কোন ABS নেই
- ছোট wheels হওয়ায় গভীর potholes বা গর্তে সাবধানে চালানো প্রয়োজন
- highway-তে ওভারটেকিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত পাওয়ারের অভাব হতে পারে
- পার্টস (parts) সহজলভ্যতা এবং resale ভ্যালু নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকতে পারে
- কম্প্যাক্ট সিটিং হওয়ার কারণে প্যাসেঞ্জার বা পিলিয়ন কমফোর্ট কম হতে পারে
শেষ কথা (Verdict)
Benelli TNT 135 একটি শৌখিন এবং স্টাইলিশ বাইক যা শহরের ভেতর রাইড করার জন্য চমৎকার। যদি বাইকটির ডিজাইন আপনার পছন্দ হয় এবং আশেপাশেই সার্ভিস সাপোর্ট থাকে, তবে এটি কেনা যেতে পারে। তবে আপনি যদি নিয়মিত হাইওয়ে রাইড, পিলিয়ন নিয়ে চলাচল বা সহজ রিসেল ভ্যালু চান, তবে প্রথাগত অন্য বাইকগুলো বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।




