Bajaj Pulsar 150 Twin Disc ABS review: বাংলাদেশে ownership রিভিউ
Bajaj Pulsar 150 Twin Disc ABS মূলত সেইসব বাংলাদেশি ক্রেতাদের জন্য, যারা মাসকুলার স্টাইলিং, ভালো ব্রেকিং হার্ডওয়্যার এবং সহজলভ্য সার্ভিসিং সুবিধা সম্পন্ন একটি পরিচিত মোটরসাইকেল খুঁজছেন। Tk 231,100 দামের এই বাইকটি সাধারণ commuting এবং sporty আকাঙ্খার মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে। এটি বাইকটির স্পেসিফিকেশন এবং বাস্তবসম্মত ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে একটি ওনারশিপ রিভিউ; এটি কোনো পার্সোনাল টেস্ট রাইড রিভিউ নয়। শোরুমের বর্তমান price এবং রেজিস্ট্রেশন খরচ আলাদাভাবে যাচাই করে নিন।
কার Bajaj Pulsar 150 Twin Disc ABS কেনা উচিত?
Bajaj Pulsar 150 Twin Disc ABS তাদের জন্য সবচেয়ে ভালো যারা অফিস বা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করেন অথবা পরিবারের জন্য এমন একটি বাইক খুঁজছেন যা শহরের যানজট এবং শহরের বাইরে মাঝেমধ্যে ছোটখাটো ট্রিপ সামলাতে পারবে। যদিও একে Sport ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে, তবে এর স্পেসিফিকেশন এটিকে পারফরম্যান্স মেশিনের চেয়ে একটি sporty everyday standard বাইক হিসেবেই বেশি তুলে ধরে।
শুধুমাত্র স্পেসিফিকেশন শিট দেখে নয়, বরং এর পরিচিতি এবং বহুমুখী ব্যবহারের জন্য এটি কিনুন। Bajaj Pulsar 150 Twin Disc ABS-এ রয়েছে ডিজিটাল ইনসার্টসহ একটি এনালগ ক্লাস্টার, হ্যালোজেন হেডল্যাম্প এবং carburettor ফুয়েলিং সিস্টেম। যারা আধুনিক ইলেকট্রনিক্স, দ্রুততর acceleration বা লো-স্পিড ম্যানুভারেবিলিটি বেশি পছন্দ করেন, তাদের কেনার আগে অন্য অপশনগুলো যাচাই করা উচিত।
Bajaj Pulsar 150 Twin Disc ABS: ইঞ্জিন এবং পারফরম্যান্স
এর স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী এতে রয়েছে একটি 150cc, single-cylinder, twin-spark DTS-i ইঞ্জিন, যা 8,000 rpm-এ 14 PS পাওয়ার এবং 6,000 rpm-এ 13.4 Nm টর্ক উৎপাদন করে। সাথে আছে একটি 5-speed গিয়ারবক্স। এই পাওয়ার ডেলিভারি ইঙ্গিত দেয় যে, Bajaj Pulsar 150 Twin Disc ABS থেকে ভালো রেসপন্স পেতে ইঞ্জিনকে কিছুটা উচ্চ rpm-এ চালাতে হবে।
১৪৪ কেজি ওজনের কারণে Bajaj Pulsar 150 Twin Disc ABS খুব বেশি এক্সপ্লোসিভ মনে না-ও হতে পারে। শহরের ট্রাফিকে সর্বোচ্চ গতির চেয়ে সঠিক গিয়ার নির্বাচন করা বেশি জরুরি। হাইওয়েতে ওভারটেকিংয়ের সময় পর্যাপ্ত জায়গা রাখুন, বিশেষ করে সাথে পিলিয়ন থাকলে। উল্লেখিত ১২০ কিমি/ঘণ্টা top speed সাধারণ কন্ডিশনে ক্রুজিং স্পিড হিসেবে ধরা ঠিক হবে না।
একটি বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন: এর ডাটায় oil cooling-এর কথা উল্লেখ আছে। তবে বাংলাদেশের মার্কেটের ইউনিটে কুলিং সিস্টেম এবং ইকুইপমেন্টের সঠিক তথ্যটি অথরাইজড ডিলার থেকে কনফার্ম হয়ে নিন। শুধুমাত্র Bajaj Pulsar 150 Twin Disc ABS নাম দেখেই সব নিশ্চিত না হয়ে বাস্তবে বাইকটি পরীক্ষা করুন।
ঢাকার ট্রাফিকে ফুয়েল ইকোনমি বা Mileage
Bajaj Pulsar 150 Twin Disc ABS-এর জন্য আনুমানিক ৪০ কিমি/লিটার mileage-কে একটি রেফারেন্স হিসেবে ধরুন, ঢাকার গ্যারান্টিড রেজাল্ট হিসেবে নয়। সিগন্যালে দীর্ঘ সময় বসে থাকা, ঘন ঘন ব্রেক ও এক্সিলারেশন এবং পিলিয়ন নিয়ে চললে mileage কমে যেতে পারে। Carburettor অ্যাডজাস্টমেন্ট, টায়ারের প্রেশার এবং পরিষ্কার এয়ার ফিল্টারও গুরুত্বপূর্ণ; শুধুমাত্র ফুয়েল গেজ দেখে খরচের হিসাব করবেন না।
এর ১৫ লিটারের ট্যাঙ্কটি বেশ বড়, তবে শুধুমাত্র ট্যাঙ্কের সাইজ আর mileage গুণ করে মাইলেজ প্রেডিকশন করবেন না। কয়েকবার ট্যাঙ্ক ফুল করে চালিয়ে প্রকৃত খরচ বের করুন। স্থানীয় মেকানিকদের দিয়ে carburettor সার্ভিস করানো সহজ হলেও ভুল টিউনিংয়ের ফলে mileage এবং থ্রটল রেসপন্স নষ্ট হতে পারে।
Bajaj Pulsar 150 Twin Disc ABS: কমফোর্ট এবং ভাঙা রাস্তা
এর ৭৮৫ মিমি seat height অনেক রাইডারের জন্যই সুবিধাজনক, তবে সিটের প্রশস্ততা রাইডারের পায়ের নাগাল নির্ধারণ করবে। কেনার আগে বাইকটি চালিয়ে এবং পার্কিং থেকে পিছিয়ে দেখার চেষ্টা করুন। উঁচু-নিচু রাস্তায় এর ওজন ব্যালেন্স করা কিছুটা কঠিন হতে পারে।
এতে আছে টেলিস্কোপিক ফর্ক এবং ৫-ধাপে অ্যাডজাস্টযোগ্য Nitrox রিয়ার সাসপেনশন। Bajaj Pulsar 150 Twin Disc ABS-এর পেছনের প্রিলোড রাইডার এবং পিলিয়নের ওজন অনুযায়ী সেট করা উচিত; তবে এটি রাস্তার সব গর্তের ঝাকুনি সামলাতে পারবে না। লম্বা সফরের কথা চিন্তা করার আগে আপনার প্রতিদিনের যাতায়াতের রাস্তায় রাইডিং পজিশন এবং পিলিয়নের স্বাচ্ছন্দ্য যাচাই করুন।
এর ground clearance কত তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই, তাই লোড থাকা অবস্থায় এটি সব স্পিড ব্রেকার অনায়াসে পার হবে এমন গ্যারান্টি দেওয়া যাচ্ছে না। বৃষ্টিতে ভেজা রাস্তা বা কাদা থেকে সাবধানে থাকুন। জলাবদ্ধতায় পানির গভীরতা না জেনে বাইক নামাবেন না, কারণ ইঞ্জিনে পানি ঢুকলে বড় ধরনের মেরামত খরচ হতে পারে।
Bajaj Pulsar 150 Twin Disc ABS: ব্রেকিং এবং সেফটি
Bajaj Pulsar 150 Twin Disc ABS-এ ২৬০ মিমি ফ্রন্ট ডিস্ক এবং ২৩০ মিমি রিয়ার ডিস্ক ব্যবহার করা হয়েছে। এর single-channel ABS শুধুমাত্র সামনের চাকা লক হওয়া থেকে রক্ষা করে, পেছনের চাকা নয়। জরুরি ব্রেকিংয়ের সময় এই পার্থক্যটি মাথায় রাখা জরুরি: টুইন ডিস্ক মানেই ডুয়াল চ্যানেল এবিএস নয়, তাই জোরে পেছনের ব্রেক চাপলে চাকা স্কিড করতে পারে।
বাইকটিতে সামনে ৯০/৯০-১৭ এবং পেছনে ১২০/৮০-১৭ সাইজের tubeless tyres ব্যবহার করা হয়েছে। ভেজা রাস্তায় গ্রিপ পেতে টায়ারের কন্ডিশন এবং প্রেশার ঠিক থাকা জরুরি। কেনার আগে ABS ওয়ার্নিং লাইট ঠিকমতো কাজ করছে কি না এবং হ্যালোজেন হেডল্যাম্পের আলো পর্যাপ্ত কি না তা পরীক্ষা করে নিন।
বিল্ড কোয়ালিটি এবং ইন্সপেকশন টিপস
Bajaj Pulsar 150 Twin Disc ABS বাংলাদেশে অ্যাসেম্বল করা হলেও, এর ফিনিশিং কোয়ালিটি নিজের চোখে দেখে নেওয়া ভালো। ঝালাইয়ের জায়গার রং, প্যানেল এলাইনমেন্ট এবং ক্যাবল রুটিং পরীক্ষা করুন। সাধারণ ক্ষয় হওয়া পার্টসকে ডিফেক্ট হিসেবে ধরা ঠিক হবে না।
ব্যবহৃত বা সেকেন্ড হ্যান্ড Bajaj Pulsar 150 Twin Disc ABS কেনার সময় কোল্ড স্টার্ট, স্টেবল আইডল, ক্লাচ এনগেজমেন্ট এবং গিয়ার শিফটিং চেক করুন। ইঞ্জিনের অতিরিক্ত ভাইব্রেশন বা শব্দকে 'নরমাল পালসার ক্যারেক্টার' ভেবে এড়িয়ে যাবেন না। এছাড়া ইলেকট্রিক্যাল কানেক্টর এবং ব্রেক ঠিকমতো কাজ করছে কি না তা দেখে নিন।
সার্ভিস, পার্টস এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ
বাংলাদেশে Bajaj-এর শক্তিশালী ডিস্ট্রিবিউশন এবং সার্ভিস নেটওয়ার্ক এই বাইকের জন্য একটি বড় সুবিধা। সাধারণ পার্টস এবং অভিজ্ঞ মেকানিক অন্য যেকোনো চাইনিজ ব্র্যান্ডের চেয়ে অনেক সহজে পাওয়া যায়। তবে জেলা ভেদে পার্টসের সহজলভ্যতা ভিন্ন হতে পারে।
রুটিন মেইনটেন্যান্স খুব বেশি ব্যয়বহুল না হলেও এটি মেইনটেন্যান্স-ফ্রি নয়। ইঞ্জিন অয়েল, ফিল্টার, চেইন কেয়ার এবং ব্রেক প্যাডের জন্য বাজেট রাখুন। ABS পার্টস বা বডি পার্টসের দাম সাধারণ সার্ভিসিংয়ের চেয়ে বেশি হতে পারে। সবসময় জেনুইন পার্টস ব্যবহারের চেষ্টা করুন এবং সার্ভিস শিডিউল মেনে চলুন।
রিসেল ভ্যালু এবং প্রতিযোগী বাইকসমূহ
Bajaj ব্র্যান্ডের পরিচিতির কারণে Bajaj Pulsar 150 Twin Disc ABS-এর রিসেল ভ্যালু সাধারণত ভালো থাকে। তবে তা বাইকের কন্ডিশন, পেপারস এবং মেইনটেন্যান্সের ওপর নির্ভর করে। ব্রেকিং বা ইঞ্জিনে কোনো সমস্যা থাকলে ভালো দাম পাওয়া কঠিন হতে পারে।
এই বাইকটি কেনার আগে বাজারে থাকা TVS Apache RTR, Honda CB Hornet এবং Yamaha FZ সিরিজের সাথে তুলনা করতে পারেন। এগুলো সঠিক দামের প্রতিযোগী না হলেও sporty-commuter হিসেবে ভালো বিকল্প। এগুলোর রাইডিং পজিশন, কন্ট্রোল এবং সার্ভিসিং খরচ তুলনা করে আপনার সিদ্ধান্ত নিন।
ভালো দিক (Pros)
- Pulsar সিরিজের পরিচিতি এবং দেশজুড়ে ব্যাপক সার্ভিসিং সাপোর্ট।
- Front ABS ব্রেকিংয়ের ক্ষেত্রে একটি বাড়তি নিরাপত্তা যোগ করে।
- Twin discs এবং tubeless tyres দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য বেশ উপযোগী।
- প্রতিদিনের যাতায়াত এবং মাঝেমধ্যে দূরের ভ্রমণের জন্য বড় ফুয়েল ট্যাঙ্ক।
খারাপ দিক (Cons)
- Single-channel ABS থাকার কারণে পেছনের চাকায় কোনো সুরক্ষা নেই।
- Carburettor এবং halogen লাইটিং বর্তমান সময়ের তুলনায় কিছুটা সেকেলে মনে হতে পারে।
- পার্কিংয়ের মতো সরু জায়গায় এই বাইকের ওজন বেশ অনুভূত হতে পারে।
- ঢাকা শহরের যানজটে উল্লেখিত mileage পাওয়া নিশ্চিত নয়।
শেষ কথা (Verdict)
Bajaj Pulsar 150 Twin Disc ABS একটি ভরসাযোগ্য এবং পরিচিত মোটরসাইকেল, যা প্রযুক্তি বা পারফরম্যান্সের দিক থেকে সেরা না হলেও ব্যবহারের দিক থেকে বেশ উপযোগী। যারা সার্ভিসিং সাপোর্ট এবং পরিচিতিকে গুরুত্ব দেন তাদের জন্য এটি ভালো পছন্দ। তবে কেনার আগে শোরুম স্পেসিফিকেশন যাচাই করুন, রাইডিং পজিশন দেখে নিন এবং অন্য বিকল্পগুলোর সাথে তুলনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিন।





