Bajaj Platina 100 ES Review: বাংলাদেশে ownership গাইড
Bajaj Platina 100 ES মূলত সেই সব ক্রেতাদের জন্য যারা একটি মোটরসাইকেলের সক্ষমতা যাচাই করেন তার যাতায়াত খরচ এবং উপযোগিতা দিয়ে, হাইওয়েতে গতির দাপট দিয়ে নয়। বাংলাদেশে অ্যাসেম্বল করা এই কমিউটার বাইকটির বর্তমান price ১৩৪,৩৫০ টাকা এবং এটি বর্তমানে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। এতে রয়েছে electric start, হালকা ওজন এবং চমৎকার ground clearance। পাড়া-মহল্লা, বাজার এবং উপজেলার রাস্তাগুলোতে প্রতিদিনের চলাচলের জন্য এটি একটি সেরা অপশন। এই রিভিউটি বাইকটির স্পেসিফিকেশন এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মালিকানা অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। কেনার আগে আপনার নিকটস্থ ডিলার থেকে চূড়ান্ত অন-রোড প্রাইস এবং স্টকের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন।
কাদের Bajaj Platina 100 ES কেনা উচিত?
Bajaj Platina 100 ES চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী এবং সেই সব রাইডারদের জন্য উপযুক্ত যাদের নিয়মিত ব্যস্ত শহরের রাস্তা এবং গ্রাম্য ভাঙা রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। ১০৮ কেজি ওজনের এই বাইকটি সরু গলি বা জ্যামের মধ্যে হ্যান্ডেল করা এবং পার্কিং করা বেশ সহজ। বারবার কাজ শেষে বাইক চালু করার ক্ষেত্রে এর electric start দারুণ সুবিধা দেয়।
তবে পিলিয়ন (সহযাত্রী) এবং মালামাল নিয়ে ঘন ঘন হাইওয়েতে যাতায়াতের জন্য এটি খুব একটা জুতসই নয়। Platina মূলত মিতব্যয়ী যাতায়াতের জন্য তৈরি, গতির জন্য নয়। যারা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট থেকে ব্যক্তিগত বাহনে শিফট হতে চাচ্ছেন তারা এটি পছন্দ করবেন; কিন্তু যারা স্পোর্টি পারফরম্যান্স বা অত্যাধুনিক সেফটি ফিচার খুঁজছেন তাদের অন্য অপশন দেখা উচিত।
Bajaj Platina 100 ES Engine: গতির চেয়ে কাজের প্রাধান্য বেশি
Bajaj Platina 100 ES-এ ব্যবহার করা হয়েছে ১০২ cc-র এয়ার-কুলড, carburetted সিঙ্গেল সিলিন্ডার ইঞ্জিন যাতে রয়েছে ExhausTEC প্রযুক্তি। এর ৭.৯ PS @ ৭,৫০০ rpm এবং ৮.৩ Nm @ ৫,৫০০ rpm পাওয়ার আউটপুট নির্দেশ করে যে এটি পারফরম্যান্সের চেয়ে স্থায়িত্বের দিকে বেশি নজর দেয়। এর ৪-স্পিড গিয়ারবক্সের কারণে পিলিয়ন নিয়ে ঢালু রাস্তায় চলার সময় আপনাকে বারবার ডাউনশিফট করতে হতে পারে।
শহরের ট্রাফিকে অল্প ওজনের কারণে বাইকটি সহজে মুভ করা যায়। তবে হাইওয়েতে এর ৮০ km/h top speed খুব একটা আরামদায়ক নয়। বিশেষ করে বাস ওভারটেক করা বা বাতাসের প্রতিকূলে চলার সময় আপনাকে বেশ হিসাব করে এগোতে হবে। আপনার নিয়মিত চলার গতির সাথে ইঞ্জিনের ভাইব্রেশন এবং সক্ষমতা মানিয়ে যায় কি না, তা বোঝার জন্য একটি টেস্ট রাইড নেওয়া জরুরি।
ঢাকার ট্রাফিকে Fuel Economy বা Mileage
Bajaj Platina 100 ES-এর আনুমানিক mileage দাবি করা হয় ৫০ km/l, তবে এটিকে ধ্রুব সত্য না ধরে একটি রেফারেন্স হিসেবে নেওয়া ভালো। ঢাকার তীব্র যানজট, দীর্ঘক্ষণ ইঞ্জিন চালু রাখা এবং বারবার গিয়ার পরিবর্তনের ফলে এই ইকোনমি কমে যেতে পারে। পিলিয়ন নিয়ে চলা, চাকায় হাওয়া কম থাকা বা ভুলভাবে অ্যাডজাস্ট করা carburettor মাইলেজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এর ১১.৫ লিটারের ফুয়েল ট্যাঙ্ক বেশ বড়, তবে মাইলেজ সব সময় সমান থাকে না। সঠিক মাইলেজ পেতে নিয়মিত কয়েকবার ফুল ট্যাঙ্ক করে চেক করুন। ভালো মাইলেজ পেতে নিয়মিত এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার রাখা এবং চেইন মেইনটেইন করা জরুরি। দীর্ঘ সময় জ্যামে আটকে থাকলে ইঞ্জিন বন্ধ রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
Bajaj Platina 100 ES-এর আরাম এবং ভাঙা রাস্তার সক্ষমতা
Bajaj Platina 100 ES-এর সামনের দিকে রয়েছে হাইড্রোলিক টেলিস্কোপিক ফর্ক এবং পেছনে SNS (Spring-in-Spring) সাসপেনশন। এটি মূলত আরামদায়ক রাইডিংয়ের জন্য ডিজাইন করা। তবে বড় গর্তগুলোতে এটি কতটা শক শোষণ করতে পারে তা বোঝার জন্য নিয়মিত পিলিয়নসহ চালিয়ে দেখা প্রয়োজন। সিটের কুশন এবং পিলিয়নের বসার জায়গাও বেশ প্রশস্ত।
এর ২০০ mm ground clearance বাংলাদেশের স্পিড ব্রেকার এবং খারাপ রাস্তার জন্য যথেষ্ট। তবে মনে রাখবেন এটি কোনো ওয়াটার-প্রুফ বাইক নয়, তাই বৃষ্টির দিনে গভীর পানিতে না চালানোই ভালো। বাইকটির ৮০৭ mm seat height কেনার আগে শোরুমে গিয়ে চেক করে নিন; উচ্চতায় কম রাইডারদের জন্য কাদাযুক্ত বা ঢালু রাস্তায় পা রাখা কিছুটা কঠিন হতে পারে।
ব্রেকিং, টায়ার এবং ভেজা রাস্তায় নিরাপত্তা
Bajaj Platina 100 ES-এর প্রধান সীমাবদ্ধতা হলো এর ব্রেকিং সিস্টেম। সামনে ১৩০ mm drum এবং পেছনে ১১০ mm drum ব্রেক দেওয়া হয়েছে এবং এতে কোনো ABS নেই। ড্রাম ব্রেক নিয়মিত অ্যাডজাস্ট করতে হয় এবং ইমার্জেন্সি ব্রেকিংয়ের সময় চাকা লক হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই ভেজা রাস্তা বা পিলিয়ন নিয়ে চালানোর সময় সামনের যানবাহন থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি।
এর tubeless tyres একটি বড় সুবিধা, যা পাংচার হলেও আপনাকে ভোগাবে না। তবে নিয়মিত টায়ার প্রেসার চেক করুন। বাইকটিতে থাকা LED DRL দিনের বেলা দৃশ্যমানতা বাড়ালেও, রাতে মেইন হেডলাইটের আলো হাইওয়ের জন্য পর্যাপ্ত কি না তা যাচাই করে নেওয়া উচিত।
বিল্ড কোয়ালিটি এবং ইন্সপেকশন গাইড
Bajaj Platina 100 ES-এ খুব সাধারণ অ্যানালগ কনসোল এবং দরকারি ফিচার ব্যবহার করা হয়েছে। এই সরলতা দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের জন্য ভালো। বাংলাদেশে অ্যাসেম্বল করা হলেও ডেলিভারি নেওয়ার আগে পেইন্ট কোয়ালিটি, প্যানেলের ফিটিং, ওয়ারিং এবং নিচের অংশে মরিচা আছে কি না তা দেখে নিন। সুইচ এবং সিটের লক ঠিকঠাক কাজ করছে কি না তাও যাচাই করুন।
পুরাতন বা ব্যবহৃত বাইক কেনার ক্ষেত্রে কোল্ড স্টার্ট সমস্যা, ইঞ্জিনের অতিরিক্ত ভাইব্রেশন, গিয়ার শিফটিং সমস্যা বা চেইন নয়েজ আছে কি না তা ভালো করে পরীক্ষা করুন। ইঞ্জিন ঠান্ডা থাকা অবস্থায় স্টার্ট দিয়ে এর প্রকৃত অবস্থা বোঝার চেষ্টা করুন।
সার্ভিস, পার্টস এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ
বাংলাদেশে Bajaj-এর বিশাল ডিলার নেটওয়ার্ক এবং ডিস্ট্রিবিউটর থাকার কারণে Platina 100 ES-এর পার্টস বা সার্ভিস পাওয়া বেশ সহজ। ছোটখাটো গ্যারেজেও এর পার্টস পাওয়া যায়। তবে জরুরি ইলেকট্রিক্যাল পার্টস বা বডি প্যানেলের জন্য অনুমোদিত showroom বা service সেন্টারে যোগাযোগ করাই ভালো।
এয়ার-কুলড ইঞ্জিন এবং ড্রাম ব্রেক হওয়ার কারণে এর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বেশ কম। নিয়মিত ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন, ফিল্টার পরিষ্কার এবং ব্রেক সার্ভিসিং করলে বাইকটি দীর্ঘদিন ভালো সার্ভিস দেবে। মেকানিকের কথায় পরে অতিরিক্ত মাইলেজ পাওয়ার আশায় carburettor টিউনিং করবেন না, বরং কোম্পানির দেওয়া সার্ভিস শিডিউল মেনে চলুন।
Resale Value এবং প্রতিদ্বন্দ্বী বাইকসমূহ
Bajaj একটি সুপরিচিত ব্র্যান্ড হওয়ায় ব্যবহৃত Platina-র ভালো resale value আশা করা যায়। তবে দাম নির্ভর করবে বাইকের কাগজপত্রের আপডেট, ইঞ্জিনের কন্ডিশন এবং দুর্ঘটনমুক্ত ইতিহাসের ওপর। বাইকটি মডিফাই না করে অরিজিনাল অবস্থায় রাখলে বিক্রি করা সহজ হয়।
Bajaj Platina 100 ES-এর সাথে তুলনা করার জন্য আপনি Hero HF Deluxe, TVS Metro এবং Honda Dream দেখতে পারেন। Platina-র ground clearance এবং electric start এর প্রধান আকর্ষণ। তবে আপনার স্বাচ্ছন্দ্য, ব্রেকিংয়ের পছন্দ এবং হাতের কাছে কোন ব্র্যান্ডের সার্ভিস সেন্টার আছে তার ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিন।
ভালো দিক (Pros)
- ভাঙাচোরা রাস্তা এবং উঁচু স্পিড ব্রেকার পার হওয়ার জন্য বেশ ভালো ground clearance।
- হালকা ওজনের কারণে প্রতিদিনের রাইডিং এবং পার্কিং করা সহজ।
- Electric start এবং tubeless tyres ব্যবহারের সুবিধা বাড়ায়।
- সহজ মেকানিক্যাল গঠন কম খরচে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য উপযুক্ত।
- বাংলাদেশে Bajaj-এর বিস্তৃত সার্ভিস নেটওয়ার্ক একটি বড় সুবিধা।
খারাপ দিক (Cons)
- ABS বিহীন drum brakes ইমার্জেন্সি ব্রেকিংয়ের ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিতে পারে।
- অল্প power হওয়ার কারণে হাইওয়েতে ওভারটেকিং করার জন্য পর্যাপ্ত শক্তি পাওয়া যায় না।
- সিটের উচ্চতা (seat height) উচ্চতায় কম রাইডারদের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
- ঢাকার যানজটের কারণে এর আনুমানিক mileage কমে যেতে পারে।
শেষ কথা (Verdict)
Bajaj Platina 100 ES তাদের জন্য একটি আদর্শ বাইক যারা সাধারণ ব্রেকিং এবং সীমিত গতির কথা মাথায় রেখে কম খরচে প্রতিদিনের যাতায়াত করতে চান। এটি গতির জন্য নয়, বরং নির্ভরযোগ্যতা এবং সহজলভ্য সার্ভিসের জন্য কেনা উচিত। কেনার আগে অবশ্যই পিলিয়নসহ টেস্ট রাইড দিন এবং রাতের আলোর সক্ষমতা যাচাই করে নিন।




